তিস্তা নিউজ ডেস্ক
রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের মুক্তিযোদ্ধা হলে “দেশ পুনর্গঠনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের বাস্তবায়ন” শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) সকালে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত নতুন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠন “আমরা বাংলাদেশি” এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই আমাদের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্বকীয়তার মূল ভিত্তি। তিনি বলেন, দেশের ভৌগোলিক সীমানার বাইরেও বাংলাভাষাভাষী মানুষ থাকলেও বাংলাদেশের মানুষের সংস্কৃতি, চিন্তাচেতনা ও মনোজগতের মধ্যে একটি স্বতন্ত্র ঐতিহাসিক পরিচয় রয়েছে, যা অন্যদের থেকে আলাদা করে।
তিনি আরও বলেন, এই স্বকীয়তাকে যারা অস্বীকার করতে চায় তারা হয় বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন, না হয় কোনো সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের জনগণের বাঙালিত্ব বা বাংলাদেশি পরিচয়ের স্বীকৃতি অন্য কোনো ভূখণ্ড থেকে গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সভায় ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলের সামাজিক ও ধর্মীয় বিবর্তনের মধ্য দিয়েই একটি অনন্য সাংস্কৃতিক পরিচয় গড়ে উঠেছে, যা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকাকে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণাকে তিনি রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক বিভাজনকে কৃত্রিমভাবে ব্যবহার করে দেশের ঐক্য নষ্ট করার চেষ্টা অতীতে করা হয়েছে। তবে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এসব বিভাজন অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে গণআন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ বাড়ছে।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় জাতিসংঘ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সার্কই হবে প্রধান ভিত্তি। দক্ষিণ এশিয়ার ২২০ কোটি মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মোমিনুল আমিন এবং বিএনপি নেতা মো. রাশেদ খান।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। তিনি দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।
সভাপতিত্ব করেন বিএনপি নেতা সৈয়দ এহসানুল হুদা এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন তমিজ উদ্দিন টিটু। বক্তারা বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য রাজনৈতিক সহনশীলতা ও জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
Leave a Reply