তিস্তা নিউজ ডেস্ক
সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রী ড. তৌফিক বিন ফাউজান আল রাবিয়াহ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও সমন্বিত কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ যে সাফল্য দেখিয়েছে, তা অন্যান্য দেশের জন্যও অনুসরণীয় উদাহরণ হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের পিলগ্রিমস এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম সেন্টারে বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে হজ ব্যবস্থাপনা, হাজীদের সেবা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা এবং হজ পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশি হাজীদের জন্য সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো প্রশংসার দাবিদার। তিনি ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদের নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন এবং তার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে ড. তৌফিক আল রাবিয়াহ আগামী ২০২৭ সালের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর করতে সৌদি সরকারের পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি হাজীদের সেবার মান উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং হজ কার্যক্রমকে আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন।
জবাবে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি সরকার হজ ব্যবস্থাপনায় যে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে, তা বিশ্বের কোটি কোটি মুসল্লির জন্য হজ পালনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করেছে। তিনি বিশেষভাবে হাজীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা, মাশায়ের এলাকায় সেবার মান বৃদ্ধি, তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রশংসা করেন।
ধর্মমন্ত্রী সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং হজ ও উমরাহ মন্ত্রী ড. তৌফিক আল রাবিয়াহর প্রতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, পবিত্র হজকে আরও সহজ ও মানবিক করতে সৌদি সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলো মুসলিম বিশ্বের কাছে অত্যন্ত প্রশংসিত।
তিনি আরও আশ্বাস দেন, আল্লাহর মেহমানদের সেবার মানোন্নয়নে এবং হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে বাংলাদেশ ভবিষ্যতেও সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং ধর্মীয় সহযোগিতা আগামী দিনে আরও জোরদার হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন, কাউন্সিলর (হজ) মো. কামরুল ইসলামসহ বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply