আজ শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থাকছে সব আপডেট একসাথে
Reporter Name
Update Time :
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
২২
Time View
ক্রীড়া ডেস্ক
ট্রফি একটি, আয়োজনও একটি দেশের—এভাবেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ঐতিহ্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ধারা বদলেছে ধীরে ধীরে।
প্রথম বড় পরিবর্তন আসে ২০০২ আসরে। সেবারই প্রথম বিশ্বকাপে দুই দেশ যৌথভাবে আয়োজন করে—জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। তবে তখনও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল একটিই, অনুষ্ঠিত হয়েছিল শুধু সিউলে। অর্থাৎ আয়োজন দুই দেশে হলেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের একক ধারাটি তখনও ভাঙেনি।
কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে সেই পুরোনো নিয়ম পুরোপুরি ভেঙে গেছে। বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো আয়োজক তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। শুধু আয়োজক বাড়েনি, বদলে গেছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কাঠামোও। এবার একক উদ্বোধনী নয়, তিনটি ভিন্ন দেশে তিনটি পৃথক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে।
তিনটি শহর—মেক্সিকো সিটি (মেক্সিকো), টরন্টো (কানাডা) এবং লস অ্যাঞ্জেলস (যুক্তরাষ্ট্র)—একসঙ্গে নয়, বরং আলাদা সময়ে আলোকিত করবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজন। বলা যায়, ত্রি–আলোর ছটায় একাধিক মহাদেশে ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বকাপের উৎসব।
মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে ‘প্রাসাদের নগরী’ নামে পরিচিত ঐতিহাসিক এই শহরটি আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় স্বাগতিক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। সেই ম্যাচের প্রায় ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বিশ্বকাপের প্রথম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়।
এই উদ্বোধনীতে মেক্সিকোর আদিবাসী সংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্য এবং বিখ্যাত কাগজের শিল্প ‘পাপেল পিকাডো’ তুলে ধরা হবে। পুরো আয়োজনকে সাজানো হয়েছে দেশটির ইতিহাস ও আধুনিক ফুটবল আবেগের মিশেলে। এখানে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘ডাই ডাই (লেটস গো)’ পরিবেশন করবেন Shakira, সঙ্গে থাকবেন নাইজেরিয়ান শিল্পী বার্না বয়।
একই মঞ্চে আরও পারফর্ম করার কথা রয়েছে বিশ্বকাপ অ্যালবামের বিভিন্ন তারকার। তাঁদের মধ্যে আছেন আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা, ড্যানি ওশান, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলস এবং মানা। দক্ষিণ আফ্রিকার সংগীতশিল্পী টাইলাও অংশ নেবেন এই আয়োজনে। মেক্সিকো সিটি ইতোমধ্যেই উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে—বিশ্বকাপের দিন সরকারি ছুটি, স্কুল বন্ধ এবং অনেক অফিসকে বাসা থেকে কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই শোটি হবে তুলনামূলকভাবে ছোট—প্রায় ১৬ থেকে ১৭ মিনিটের মতো।
পরদিন কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে হবে দ্বিতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে এই আয়োজন। তার পর রাত ১টায় মাঠে নামবে স্বাগতিক কানাডা ও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, যা দিয়ে কানাডার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে।
টরন্টোর অনুষ্ঠান শুরু হবে একটি বিশেষ কাউন্টডাউন দিয়ে, যেখানে কানাডার ইতিহাস, বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় এবং খেলাধুলার গৌরবময় মুহূর্তগুলো তুলে ধরা হবে। এই অনুষ্ঠানের পারফর্মার তালিকাও বেশ তারকাখচিত—অ্যালানিস মরিসেট, আলেসিয়া কারা, এলিয়ানা, মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি, সঞ্জয় (বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত), ভেজেড্রিম এবং উইলিয়াম প্রিন্সসহ আরও অনেকে।
এই শোয়ের সময়কাল হবে প্রায় ১৩ মিনিট।
তারপর আসে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামের আয়োজন। এখানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে পাঁচটায়। এরপর সকাল ৭টায় মাঠে নামবে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ে।
লস অ্যাঞ্জেলসের অনুষ্ঠান হবে সবচেয়ে বড় ও দৃষ্টিনন্দন—হলিউড স্টাইলের ভিজ্যুয়াল, বিশাল স্কেল প্রোডাকশন এবং গল্প বলার ভিন্নধর্মী উপস্থাপনা দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো শো। এখানে মঞ্চ মাতাবেন কেটি পেরি, ফিউচার, অ্যানিত্তা, Lisa, রেমা এবং টাইলারসহ বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা।
এই তিনটি আয়োজনের মধ্যেই রয়েছে একই বার্তা—ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটি সংস্কৃতি, আবেগ এবং মানুষের একতার প্রতীক।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আগে তেমন আলোচিত ছিল না। কিন্তু ২০১০ বিশ্বকাপে Shakira–এর ‘ওয়াকা ওয়াকা’ পারফরম্যান্সের পর থেকেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আলাদা গুরুত্ব পেতে শুরু করে। এর আগে ১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে ডায়ানা রসের প্রতীকী পেনাল্টি শটও দর্শকদের মনে দাগ কেটেছিল।
এবারের আয়োজনের প্রযোজনার দায়িত্বে আছেন বিশ্বখ্যাত শো ডিরেক্টর মার্কো বালিচ, যিনি একাধিক অলিম্পিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে তিনটি শহরের অনুষ্ঠান আলাদা হলেও থিম এক—ভেদাভেদ ভুলে ফুটবল বিশ্বকে একসূত্রে বাঁধে।
এইভাবেই একক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ঐতিহ্য ভেঙে বিশ্বকাপ প্রথমবারের মতো ছড়িয়ে যাচ্ছে তিনটি দেশে, তিনটি মঞ্চে, কিন্তু একটাই আবেগ—ফুটবল।
Leave a Reply