1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tistanewsbd : Md. Amdadul Hoque
রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন

রামিসা হত্যা-ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
  • ২৭ Time View

তিস্তা নিউজ ডেস্ক

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু হয় এবং দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেন।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও উপস্থিতি ছিল।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে স্বপ্না খাতুনকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে ৮টা ৫০ মিনিটে প্রিজনভ্যানে করে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে হাজির করা হয়। এরপর দুজনকেই ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয় এবং পরে এজলাসে তোলা হয়।

মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয় দ্রুত গতিতে। গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য ও জেরা একই দিনে শেষ হয়। ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য ৭ জুন দিন ধার্য করেন।

মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো, যা দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ার একটি নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেশী স্বপ্না খাতুন তাকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।

এর কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে খুঁজতে শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন স্বজনরা। ভেতরে সোহেলের শয়নকক্ষে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির মধ্যে মাথা পাওয়া যায় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না খাতুনকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা ও ধর্ষণ এবং লাশ গুমে সহায়তার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পরে ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এতে মোট ১৮ জন সাক্ষী অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আলামতের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তারা এই রায়কে ন্যায়বিচারের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশে কড়া নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা রায়ের দিকে তাকিয়ে ছিলেন এবং আদালতের এই সিদ্ধান্তে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 JaldhakaITPark
Theme Customized By LiveTV