তিন দিনের সরকারি সফরে রাশিয়ার পথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
Reporter Name
Update Time :
রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
১৪
Time View
তিস্তা নিউজ ডেস্ক
তিন দিনের সরকারি সফরে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। রোববার (৭ জুন) সকালে তিনি সফরে রওনা হন। সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে আগামী ৯ জুন দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার।
কূটনৈতিক মহলে এ সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এটি ড. খলিলুর রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। ফলে বাংলাদেশ-রাশিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে মস্কোতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া রুশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে একাধিক সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং মতবিনিময়েরও সম্ভাবনা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠকের মূল আলোচ্যসূচির মধ্যে থাকবে।
বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে বাংলাদেশের বৃহত্তম অবকাঠামোগত উদ্যোগগুলোর একটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প। রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
এছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা, সার আমদানি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে মতবিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিকল্প বাণিজ্য ব্যবস্থা ও পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে যে পরিবর্তন এসেছে, সেই প্রেক্ষাপটও বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, খাদ্য নিরাপত্তা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর এর প্রভাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। জ্বালানি, অবকাঠামো, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তাই এ সফর দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সফর শেষে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং বিভিন্ন সহযোগিতা প্রকল্প নিয়ে নতুন অগ্রগতির ঘোষণা আসতে পারে বলেও আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply