নিজস্ব প্রতিনিধি,
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। এ পরিস্থিতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরবেন কি না—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক স্ট্যাটাসে তারেক রহমান ইঙ্গিত দেন, দেশে ফেরা তার একক সিদ্ধান্ত নয়; বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করতে হচ্ছে। এই মন্তব্য ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে—তার দেশে ফেরার পথে প্রকৃত বাধা কোথায়? সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তার দেশে ফেরা নিয়ে কোনো আপত্তি বা বাধা নেই। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে সরকারের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর পূর্ববর্তী আমলে দায়ের হওয়া মামলাগুলো থেকেও তারেক রহমান এবং তার স্ত্রী জুবায়দা রহমান আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অব্যাহতি পেয়েছেন। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিএনপির পক্ষ থেকে বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনা ও অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ফলে মামলার ঝক্কি বা নিরাপত্তা—কোনোটিই তার দেশে ফেরা ঠেকানোর বড় কারণ বলে মনে হচ্ছে না।
তবে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদন। সেখানে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, ১/১১-এর সময় তারেক রহমান ও তার পরিবার কিছু অঙ্গীকার করেছিলেন—যার একটি ছিল তারেক রহমানের সক্রিয় রাজনীতি না করা। সেই অঙ্গীকারের মেয়াদ শেষ হয়েছে কি না বা তিনি নতুন পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন কি না—এ সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। এই অনিশ্চয়তা তার দেশে ফেরার প্রশ্নকে আরও জটিল করেছে।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের এক মন্তব্য নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে। তিনি দাবি করেন—দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক পরিবারের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার একটি অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চলছে। তারেক রহমানকে ঘিরে তার মন্তব্যের পর ‘মাইনাস টু’ কিংবা ‘মাইনাস ফোর’ তত্ত্ব আবার সামনে চলে আসে।
বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, অতীতে প্রকৃত অভিসন্ধি ছিল দুই পরিবারের রাজনৈতিক আধিপত্য কমানো—অর্থাৎ ‘মাইনাস ফোর’। বর্তমানে শেখ হাসিনার পরিবার রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে কর্মক্ষম নন। ফলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন তারেক রহমানই। পরিস্থিতি আবার কি ‘মাইনাস ফোর’-এর দিকে মোড় নেবে—তা এখনো অনিশ্চিত।
অন্যদিকে, বিএনপির কিছু শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন—নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর যেভাবেই হোক দেশে ফিরবেন তারেক রহমান এবং তিনিই নেতৃত্ব দেবেন দলের নির্বাচনি প্রচারণায়। খালেদা জিয়ার অবনতিশীল শারীরিক অবস্থা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে তার দেশে ফেরার প্রশ্নই এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়।
Leave a Reply