আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে তাদের সামরিক অভিযানের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং চলমান সংঘাত ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হতে পারে। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ হচ্ছে না। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান জুড়ে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি-র সমর্থনে বড় ধরনের সমাবেশ হয়েছে। বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে সমাবেশে অংশ নিয়ে সরকারের প্রতি সমর্থন জানান।
অন্যদিকে চলমান বোমাবর্ষণের পাল্টা জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে তেহরান। ইরানের দাবি, বাহরাইন, কুয়েত এবং সৌদি আরব-এ অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এই সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে আশপাশের দেশগুলোতেও পড়েছে। ইসরায়েলে অন্তত দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে লেবানন-এ ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৪৮৬ জন ছাড়িয়ে গেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে।
এরই মধ্যে ইরানের নেতৃত্ব প্রশ্নে আবারও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া ইরানের কোনো সর্বোচ্চ নেতা বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না। বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিষদ অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনি-কে নির্বাচিত করেছে। তবে নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তিনি এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি।
মোজতবা খামেনি হলেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-র ছেলে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে আলী খামেনি নিহত হন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ABC News-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ নেতাকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন নিতে হবে। তিনি বলেন, “যদি তিনি আমাদের অনুমোদন না পান, তবে তিনি বেশি দিন টিকতে পারবেন না।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা, নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল জোটের সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর ফলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
Leave a Reply