ডেস্ক রিপোর্ট
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঢালিউডে নতুন সিনেমার আমেজ তৈরি হয়েছে। সেই তালিকায় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে জনপ্রিয় অভিনেতা Siam Ahmed অভিনীত সিনেমা ‘রাক্ষস’। সিনেমাটির মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেক হতে যাচ্ছে কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী Sushmita Chatterjee-এর। আজিম হারুন ও রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত এই সিনেমাটি ঈদুল ফিতরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রকাশিত ট্রেলার দেখে অনেক সিনেমাপ্রেমী মনে করছেন, ‘রাক্ষস’ দর্শকদের জন্য ভিন্নধর্মী এক অভিজ্ঞতা নিয়ে আসতে পারে।
ঈদকে সামনে রেখে ঢালিউডে যখন একের পর এক নতুন সিনেমার খবর আসছে, তখন ‘রাক্ষস’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহও দিন দিন বাড়ছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সিনেমাটির প্রথম পোস্টার প্রকাশ করা হয়। পোস্টার প্রকাশের পরই সামাজিক মাধ্যমে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সেই পোস্টারে দেখা যায়, সামনে ছড়িয়ে রয়েছে অনেকগুলো রক্তাক্ত লাশ এবং কালো স্যুট পরে স্টাইলিশ ভঙ্গিতে একটি চেয়ারে বসে আছেন সিয়াম আহমেদ। প্রথম পোস্টারেই নায়কের এই ভিন্ন লুক দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করে।
এর পরদিন শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে প্রকাশ করা হয় সিনেমাটির দ্বিতীয় পোস্টার। সেখানে সিয়াম আহমেদের সঙ্গে দেখা যায় নায়িকা সুস্মিতা চ্যাটার্জিকে। পোস্টারে সিয়ামকে রক্তাক্ত চাপাতি হাতে নায়িকার গলায় ধরে থাকতে দেখা যায়। একই পোস্টারে ট্রেলার মুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর মধ্যরাতে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় বহুল প্রতীক্ষিত ট্রেলার, যেখানে লেখা ছিল— “রাক্ষস মাঝরাতেই আসে… আর তখনই শুরু হয় কোপ।”
২ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের এই ট্রেলারটির শুরুতেই শোনা যায় সিয়াম আহমেদের কণ্ঠে এক গম্ভীর ও দার্শনিক সংলাপ। অন্ধকার ঘরে বসে সিগারেট টানতে টানতে তিনি বলেন— “মানুষ বলে নারী কীসে আটকায়? নারী বলে— মায়ায়, ভালোবাসায়। আমি বলি না— নারী আটকায় লোভে। আর লোভে পাপ, আর পাপে…” এরপরই ট্রেলারে দেখা যায় একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য। মুহূর্তের মধ্যেই শান্ত পরিবেশ রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী এক রণক্ষেত্রে, যেখানে ধারালো অস্ত্রের কোপে একের পর এক লাশ পড়তে দেখা যায়।
তবে ট্রেলারের পরের অংশে দেখা যায় ভিন্ন এক সিয়ামকে। ভয়ঙ্কর ও নির্মম চরিত্রের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক গভীর প্রেমের গল্প। নায়িকা সুস্মিতা চ্যাটার্জির প্রতি নিজের অন্ধ ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে সিয়ামকে বলতে শোনা যায়— “তোরে ভালোবাইসা আমি এমন একটা জায়গায় চলে গেছি, তোর হাসিতে আমি হাসতাম, তোর খুশিতে আমি খুশি হইতাম, তোর কষ্টে আমি কানতাম।”
এই রোমান্টিক মুহূর্তগুলো ইঙ্গিত দেয় যে গ্যাংস্টার জীবনের বাইরেও ‘রাক্ষস’ চরিত্রটির একটি দুর্বল ও আবেগী দিক রয়েছে। নির্মাতাদের মতে, এই সিনেমার মাধ্যমে দর্শক সিয়াম আহমেদকে সম্পূর্ণ নতুন ও ভিন্ন রূপে দেখতে পাবেন।
সিনেমাটির পরিচালক Mehedi Hasan Hridoy আগেই জানিয়েছিলেন, তার আগের কাজ Borbaad সিনেমার চেয়েও তিনগুণ বেশি ভায়োলেন্স থাকছে Rakkhosh-এ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দর্শক এই ভিন্নধর্মী উপস্থাপনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবেন এবং সিনেমাটি একবার দেখার পর আবারও দেখতে আগ্রহী হবেন।
Leave a Reply