নিজেস্ব প্রতিবেদক
নীলফামারীর জলঢাকার বালুচরে মরুর ফল হিসেবে পরিচিত তরমুজ এবার বিপুল শোভা পেয়েছে। তিস্তা নদীর তীরবর্তী গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সাইফন এলাকায় চলতি মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে ৫০ বিঘা জমির উপর তরমুজ চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন আশাতীত হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি করেছে।
যেখানে একসময় অনাবাদি পড়ে থাকতো, সেখানে এখন দেখা যাচ্ছে সবুজ লতা আর বিশাল তরমুজ। স্থানীয় কৃষকরা বলেন, “আগে এই জমিতে কিছু আবাদ হতো না। এবার সাহস করে তরমুজ লাগিয়েছি। একেকটি তরমুজ ৫ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত হয়েছে। আশা করি ভালো দামে বেচতে পারব। আমাদের তরমুজ অনেক মিষ্টি, পাইকাররাও যোগাযোগ শুরু করেছে।”
উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, “সাইফন এলাকায় কৃষকরা অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন। মাটি এবং আবহাওয়া মালচিং পদ্ধতিতে চাষের জন্য অনুকূল। পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় এবং সঠিক সময়ে সেচ দেওয়ায় ফলন পুষ্টিকর হয়েছে। আমরা লক্ষ্য করছি, তরমুজ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। বাণিজ্যিক প্রসার ঘটালে স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।”
বর্তমানে সাইফনের তরমুজ মাঠ থেকেই বিক্রি হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা সংগ্রহ করতে আসছেন। স্বল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় অনেক বেকার যুবকও চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। যথাযথ সরকারি সহযোগিতা ও বাজারজাতকরণ সুবিধা পেলে নীলফামারীর এই তরমুজ দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও সরবরাহ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply