আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার উচ্চ-পর্যায়ের শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে। আলোচনা সম্পর্কে অবগত ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উভয় দেশের প্রতিনিধিদল রবিবারই ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন। সম্ভাব্য এই বৈঠককে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ইতোমধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে, যাতে দুই পক্ষকে আবারও আলোচনার টেবিলে বসানো যায়।
এর আগে টানা উত্তেজনার পর গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। সেই সুযোগে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় সক্রিয় হয় পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক সফর করেন, আর সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির ইরান সফর করে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক করেন। যদিও এসব উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সম্ভাব্য বৈঠককে ঘিরে ইসলামাবাদে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রদেশ থেকে হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী রাজধানীতে মোতায়েন করা হচ্ছে। এর আগে প্রথম দফার বৈঠকের সময়ও ১০ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি হলে তিনি নিজেও ইসলামাবাদ সফর করতে পারেন। তার দাবি, চলমান আলোচনায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠকটি ছিল ১৯৭৯ সালের ইরানের ইসলামী বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি আলোচনা। প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকেও কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি।
তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফার আলোচনার নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে যাচাই ছাড়া কোনো খবর প্রকাশ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, সম্ভাব্য এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা এবং শান্তির আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
Leave a Reply