ক্রীড়া ডেস্ক
পাকিস্তানের বিপক্ষে কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট হাতে একাই লড়লেন লিটন দাস। দলের টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডার ব্যর্থ হলেও দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে বড় বিপর্যয় থেকে টেনে তুলেছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ শতক এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় সেঞ্চুরি।
ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে উইকেটে নামেন লিটন। তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১০৬ রান। শুরু থেকেই চাপের মধ্যে থাকা দলকে পথ দেখানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি। কিন্তু এক প্রান্তে লিটন লড়াই চালিয়ে গেলেও অন্য প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ।
মুশফিকুর রহিম, মেহেদি হাসান মিরাজ দ্রুত ফিরলে মাত্র ১১৬ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে টাইগাররা। সেখান থেকেই প্রতিরোধের দেয়াল গড়ে তোলেন লিটন। লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের সঙ্গে ছোট ছোট গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলের রান এগিয়ে নিতে থাকেন তিনি।
কখনও তাইজুল ইসলাম, কখনও তাসকিন আহমেদ, আবার কখনও শরিফুল ইসলাম তাকে সঙ্গ দিয়েছেন। বিশেষ করে তাইজুল ইসলাম ১৬ রান করলেও ৪০ বল মোকাবিলা করে গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটান, যা লিটনের ইনিংস গড়তে বড় সহায়তা করে।
দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ১৩৫ বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন লিটন দাস। চাপে থেকেও আত্মবিশ্বাসী শট, দারুণ টাইমিং ও পরিপক্ব ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানি বোলারদের বিপক্ষে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তিনি। দিনের খেলা শেষে ১০৩ রানে অপরাজিত ছিলেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। তার সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন শরিফুল ইসলাম।
প্রথম ইনিংসে ৭০.২ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ২৪৭ রান। যদিও ইনিংসের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। মুহাম্মদ আব্বাসের করা ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে ফিরে যান ওপেনার জয়।
এরপর মুমিনুল হক ও অভিষিক্ত তানজিদ হাসান তামিম কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তানজিদ ৩৪ বলে ২৬ রান করে আউট হলে ভাঙে ৪৪ রানের জুটি। পরে মুমিনুল হকও খুররম শাহজাদের দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড হন।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা সময় কাটিয়ে ২৯ রান করেন। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনিও। এরপর মুশফিকুর রহিম ৬৪ বলে ২৩ রান করে ফিরলে আরও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। মেহেদি হাসান মিরাজ মাত্র ৪ রান করে বিদায় নিলে বড় বিপদে পড়ে দল।
সেখান থেকেই শুরু হয় লিটনের একার লড়াই। একদিকে উইকেট পড়ছে, অন্যদিকে ব্যাট হাতে দায়িত্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মিশেলে গড়া তার এই ইনিংস এখন বাংলাদেশের ইনিংসের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।
কঠিন উইকেট, চাপের ম্যাচ এবং বিপর্যস্ত দল—সবকিছুর মাঝেও লিটন দাস দেখিয়েছেন কেন তিনি বাংলাদেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য টেস্ট ব্যাটার।
Leave a Reply