ক্রীড়া ডেস্ক
২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে ব্রাজিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘হেক্সা’ পূরণ করাই এখন নতুন কোচ আর্লো আনচেলত্তির প্রধান লক্ষ্য। ছন্দ হারানো সেলেসাওদের পুনর্গঠন, ইনজুরিতে জর্জরিত খেলোয়াড়দের সামলানো এবং প্রতিটি পজিশনে ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠন—সব মিলিয়ে তার সামনে চ্যালেঞ্জের পাহাড়।
এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ব্রাজিলের সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তিনি থাকবেন কি না—এই প্রশ্ন ঘিরে ফুটবল দুনিয়ায় চলছে তীব্র আলোচনা। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আবেগী সিদ্ধান্তের জায়গা নেই বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন আনচেলত্তি।
ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ফিফার কাছে জমা দেওয়া ৫৫ জনের প্রাথমিক স্কোয়াডে নেইমারের নাম রাখা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত ২৩ বা ২৬ সদস্যের দল ঘোষণার আগে তার ফিটনেস ও ফর্ম কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। আগামী ১৮ মে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করবেন কোচ আনচেলত্তি।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, বিশ্বকাপ দল নির্বাচন কখনোই সহজ নয়। এখানে প্রতিভা, অভিজ্ঞতা, বর্তমান পারফরম্যান্স এবং শারীরিক সক্ষমতা—সবকিছু সমানভাবে বিবেচনা করা হয়।
তিনি পরিষ্কারভাবে জানান, “নেইমার ব্রাজিলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নাম, কিন্তু দল নির্বাচনে আবেগের কোনো জায়গা নেই। সিদ্ধান্ত হবে শুধুমাত্র ফিটনেস ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে।”
কোচ আরও বলেন, ব্রাজিল দলে প্রতিযোগিতা এখন তীব্র। অতীত সাফল্য নয়, বর্তমান মাঠের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে কে বিশ্বকাপের মূল স্কোয়াডে জায়গা পাবে।
বর্তমানে ব্রাজিল দলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনা। তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড গড়ার পরিকল্পনা করছেন আনচেলত্তি, যা বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারে।
নেইমারের ইনজুরি থেকে ফেরা এবং ফর্মে ফেরার লড়াই এই পুরো পরিকল্পনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। তার ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ এখন নির্ভর করছে পুরোপুরি ফিটনেস পরীক্ষার ওপর।
সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল দলে জায়গা পাওয়া এখন আর নামের জোরে নয়—এটা হয়ে উঠছে কঠিন এক পরীক্ষা, যেখানে শেষ কথা বলবে পারফরম্যান্স, প্রস্তুতি আর বাস্তবতা।
Leave a Reply