ক্রীড়া ডেস্ক
দেশীয় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে অনুপ্রেরণা জোগাতে নতুন এক পুরস্কার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), যা পরিচালনা করছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অ্যাডহক কমিটি। খেলোয়াড়দের সাফল্যকে আরও মূল্যায়ন করা এবং প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বোর্ড।
এর আগে নিউজিল্যান্ড সিরিজ এবং চলমান পাকিস্তান সিরিজে ম্যাচ সেরা বা উল্লেখযোগ্য পারফর্মারদের জন্য মোটরবাইক পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজকে সামনে রেখে আরও বড় চমক এনেছে বিসিবি। এবার সেরা পারফর্ম করা বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে দেওয়া হবে বিলাসবহুল চেরি ব্র্যান্ডের একটি গাড়ি।
মঙ্গলবার (মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে) বিসিবি ও চেরি অটোমোবাইলসের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। চুক্তির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে পারফরম্যান্সভিত্তিক বিশেষ পুরস্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
তামিম ইকবাল জানান, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ মিলিয়ে যেকোনো ফরম্যাটে সেরা পারফর্ম করা বাংলাদেশি ক্রিকেটারই এই বিশেষ চেরি গাড়ি পুরস্কার পাবেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ড চেরির বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হওয়া একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে, যা দেশের ক্রিকেটের প্রতি আস্থা বাড়াবে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভাবমূর্তি কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলেও এখন আবার বড় বড় প্রতিষ্ঠান ক্রিকেটে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এর আগে বিভিন্ন সিরিজে বাইক কোম্পানিগুলো স্পন্সর হিসেবে যুক্ত হয়ে খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করেছে।
তামিম অতীতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটে বিশেষ অর্জনের জন্য পুরস্কারের ইতিহাস আগেও ছিল। দেশের প্রথম টেস্ট জয়ের সময় সাবেক ক্রিকেটার নাফিস ইকবালও বিশেষ পুরস্কার পেয়েছিলেন। প্রায় দুই দশক পর আবার এমন উদ্যোগ ফিরে আসায় তিনি চেরি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
স্পন্সরদের সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত অর্জন নয় বরং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। তিনি জানান, দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে এই স্পন্সরশিপ এসেছে এবং তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সমর্থন জানিয়ে যুক্ত হয়েছে।
সব মিলিয়ে এই নতুন উদ্যোগ বাংলাদেশ ক্রিকেটে পারফরম্যান্সভিত্তিক পুরস্কার সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে বাড়তি অনুপ্রেরণা ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Leave a Reply