তিস্তা নিউজ প্রতিবেদক
দেশের বিমান খাতে নতুন যুগের সূচনা করতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল (থার্ড টার্মিনাল) পুরোপুরি চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এই টার্মিনাল চালু হলে যাত্রীসেবা, ফ্লাইট পরিচালনা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে বাংলাদেশ এভিয়েশন ট্যুরিজম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বাটজা) নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
মন্ত্রী বলেন, “থার্ড টার্মিনালের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। বিজয় দিবসকে সামনে রেখে আমরা এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছি। এটি চালু হলে দেশের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।”
তিনি জানান, নতুন টার্মিনালটি চালু হলে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি কমবে। আধুনিক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা, দ্রুত লাগেজ হ্যান্ডলিং, স্বয়ংক্রিয় বোর্ডিং সুবিধা এবং উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, “বর্তমানে যাত্রী সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সেই চাহিদা সামাল দিতেই এই অত্যাধুনিক টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। এটি চালু হলে বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণক্ষমতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, থার্ড টার্মিনাল চালু হলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় গতি বাড়বে এবং নতুন নতুন রুট চালুর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ট্রানজিট যাত্রীসেবাও উন্নত হবে, যা বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিমান বহর সম্প্রসারণ নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন আফরোজা খানম রিতা। তিনি বলেন, “আমরা মিক্সড ফ্লিট গঠনের পরিকল্পনা করছি। চলতি বছরের মধ্যেই অন্তত পাঁচটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো সহজ হবে।”
তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উড়োজাহাজ যুক্ত হলে জ্বালানি সাশ্রয় হবে, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমবে এবং যাত্রীদের আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, “জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে সরকার কাজ করছে। নতুন প্রযুক্তির উড়োজাহাজ সংযোজন সেই পরিকল্পনারই অংশ।”
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের এভিয়েশন ও পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। থার্ড টার্মিনাল সেই পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলোর একটি।
বিশ্লেষকদের মতে, টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু হলে শুধু যাত্রীসেবাই নয়, দেশের বাণিজ্য, পর্যটন ও বৈদেশিক যোগাযোগেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশি যাত্রীদের জন্য ভ্রমণ হবে আরও দ্রুত, আধুনিক ও স্বাচ্ছন্দ্যময়।
Leave a Reply