আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইন্দোনেশিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যা দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় দ্বীপাঞ্চলে তীব্র কম্পন সৃষ্টি করে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ৬টা ৪৮ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে কাজ চলছে এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তেরনাত শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের নিচে। উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চল হওয়ায় কম্পনের প্রভাব সেখানে বেশি অনুভূত হয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তেরনাত এলাকায় দুই লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস রয়েছে, ফলে ঝুঁকির মাত্রাও তুলনামূলক বেশি ছিল।
প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭ দশমিক ৮ বলা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৭ দশমিক ৪ নির্ধারণ করা হয়। United States Geological Survey জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল মালাক্কা সাগরের তলদেশে।
ভূতাত্ত্বিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় নিয়মিত ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। এ কারণে দেশটি বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলের একটি।
ভূমিকম্পের পরপরই সম্ভাব্য সুনামির ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে কর্তৃপক্ষ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং পরবর্তী আফটারশকের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছে।
ইতোমধ্যে সরকারি ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবন ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বড় মাত্রার ভূমিকম্পের পর আফটারশক হওয়া স্বাভাবিক। তাই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply