আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেনে আবারও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে চালানো হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এসব হামলা ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির কারণ হয়েছে। একই সময়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে—ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান-এর সঙ্গে ইস্তাম্বুলে বৈঠক করেছেন।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খারকিভ অঞ্চলে হামলার তীব্রতা ছিল বেশি। গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভের তথ্য অনুযায়ী, খারকিভ শহরসহ ১১টি শহর ও গ্রামে হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে সুমি অঞ্চলে রাতের আঁধারে ড্রোন হামলায় অন্তত ১১ জন আহত হন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নিকোপোল শহরের একটি বাজারে ড্রোন হামলায় পাঁচজন নিহত এবং আরও ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্দর গাঞ্জা। অপরদিকে পূর্বাঞ্চলের দোনেৎস্ক অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় ছয়জন নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন গভর্নর ভাদিম ফিলাশকিন।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার ছোড়া মোট ২৮৬টি ড্রোনের মধ্যে ২৬০টি ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তবে ১১টি ড্রোন ১০টি স্থানে আঘাত হানে এবং ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ছয়টি ভিন্ন স্থানে পড়ে ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করে।
এদিকে পাল্টা পরিস্থিতিতে রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় গভর্নর ইউরি স্লিউসারের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন সীমান্তের কাছে বন্দরনগরী তাগানরগে এই হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন রুশ নাগরিক এবং একজন বিদেশি রয়েছেন, যাদের অবস্থা গুরুতর। একটি বাণিজ্যিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সেখানে আগুন ধরে যায়, পরে দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
অন্যদিকে, আজভ সাগরে একটি বিদেশি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে। একই সঙ্গে তাগানরগ উপসাগরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গভর্নর স্লিউসার, যদিও হামলার উৎস সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, আজভ সাগর শিল্পপণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ, ফলে এই অঞ্চলে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
Leave a Reply