তিস্তা নিউজ ডেস্ক
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে শনিবার (১৬ মে) দুপুরে এক বিশাল জনসমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সকাল থেকেই আশপাশের এলাকা থেকে দলে দলে মানুষ সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করে, ফলে পুরো এলাকা এক উৎসবমুখর জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
সমাবেশ চলাকালীন এক মানবিক ও আবেগঘন মুহূর্তে সাইফুল ইসলাম লিটন নামের এক সাধারণ কৃষককে মঞ্চে ডেকে নিজের পাশে বসান সরকারপ্রধান। তিনি সরাসরি কৃষকের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, কৃষিকাজের চ্যালেঞ্জ ও পারিবারিক জীবন নিয়ে বিস্তারিত জানতে চান। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি মনোযোগ দিয়ে কৃষকের কথা শোনেন, যা উপস্থিত জনতার মধ্যেও আলোড়ন সৃষ্টি করে।
এই অভূতপূর্ব ঘটনায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কৃষক সাইফুল ইসলাম লিটন। তিনি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, জীবনে কখনো ভাবেননি দেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসে নিজের কথা বলার সুযোগ পাবেন। এটি তার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে থাকবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের মতে, খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি শুধু একটি উন্নয়ন উদ্যোগ নয়, বরং এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন ও জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘদিনের পানিবদ্ধতা দূর হলে কৃষি ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও সরকার আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ কৃষি অর্থনীতি গড়ে তুলতে কাজ করছে। ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে দেশকে খাদ্য উদ্বৃত্ত অবস্থানে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং উন্নত সেচ সুবিধার আওতায় আনা হবে। কৃষিখাতকে আরও টেকসই ও লাভজনক করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া নারী শিক্ষার প্রসারে বড় ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, স্নাতক (পাস ও অনার্স) পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষার সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করবে। এ ঘোষণার পর সমাবেশে উপস্থিত নারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও করতালি দেখা যায়।
দিনব্যাপী এই কর্মসূচিকে ঘিরে পুরো শাহরাস্তি এলাকা জুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ সরকারের উন্নয়ন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, খাল পুনঃখনন ও কৃষিবান্ধব নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
Leave a Reply