তিস্তা নিউজ ডেস্ক
রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে শনিবার (১৬ মে) বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল সমাবেশে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের সরকারি ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে নদী-নির্ভর সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে অংশ নিতে সকাল থেকেই রাজশাহীসহ আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাদরাসা ময়দান জনসমুদ্রে রূপ নেয়। ব্যানার, ফেস্টুন ও নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পদ্মা নদী শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্য হয়ে পড়ে এবং বর্ষায় ভয়াবহ দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। এই বাস্তবতায় পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও সতর্ক করে বলেন, এটি যেন কেবল ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের সমাধান হয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের ১৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী ক্রমশ নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে কৃষি, খাল ও গ্রামীণ জীবনব্যবস্থা ভয়াবহ সংকটে পড়বে। তাই নদী রক্ষার পাশাপাশি খাল পুনঃখনন ও জলব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিস্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বহু বছর ধরে উত্তরাঞ্চলের মানুষ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবায়ন হয়নি। তাই তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত কার্যকর করতে হবে, নইলে এই অঞ্চলের জীবন-জীবিকা আরও সংকটে পড়বে।
সমাবেশে তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে পরিস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বেকারত্ব বাড়ছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিবেশী দেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তি চায় এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখতে চায়। তবে কোনো ধরনের বৈষম্য, চাপ বা অন্যায় আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এই দেশ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের। নাগরিক অধিকার সমানভাবে ভোগ করার নিশ্চয়তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো ধরনের বিভাজন সৃষ্টি হলে তা জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক এবং সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। এ সময় ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও উন্নয়ন ইস্যুতে বক্তব্য দেন।
দিনব্যাপী এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো রাজশাহী এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জনআগ্রহের পরিবেশ তৈরি হয়। আয়োজকরা জানান, নদী ও জনস্বার্থ রক্ষার দাবিতে তাদের আন্দোলন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply