ফরহাদ ইসলাম নিজস্ব প্রতিনিধিঃ(নীলফামারী)
নীলফামারীর জলঢাকায় পরিবহন খাতে শ্রমিক নেতা ও পরিবহন মালিকের মধ্যে বিরোধ এখন প্রকাশ্যে এসেছে। জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের উপ-কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং দুটি পরিবহন কোম্পানির মালিক—দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
শনিবার (৩০ মে) দুপুরে জলঢাকা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন একটি অফিস কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন পারফেক্ট ট্রাভেলস ও জলঢাকা ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজারুল ইসলাম মিঠুন। এ সময় তিনি জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি. নং-২২০) সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে পরিবহন মালিকদের হয়রানি, অবৈধ চাঁদা আদায়, শ্রমিকদের মারধর এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।
লিখিত বক্তব্যে মাজারুল ইসলাম মিঠুন বলেন, আব্দুর রশিদ তার প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তার ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে আসছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগে তার একটি বাস কোনো লিখিত অনুমতি ছাড়াই শ্রমিক ইউনিয়নের অফিসে আটকে রাখা হয় এবং নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে হলে অতিরিক্ত অর্থ দিতে চাপ দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, এসব শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে পরিবহন ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
অন্যদিকে একই দিন বিকেলে এসব অভিযোগের প্রতিবাদে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের উপ-কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ। বিকেল ৩টায় সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রশিদ বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের অধিকার, কল্যাণ ও উন্নয়নে কাজ করে আসছেন। একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার সামাজিক ও সাংগঠনিক অবস্থান ক্ষুণ্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বরং মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে তার সম্মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ সময় নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ উপ-কমিটির সভাপতি মমিনুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তারা বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আহ্বান জানান।
সব মিলিয়ে জলঢাকার পরিবহন খাতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি এখন স্থানীয় মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
Leave a Reply