আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সম্মেলনে সহ-সভাপতির পদ পেল বাংলাদেশ
Reporter Name
Update Time :
মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
২১
Time View
তিস্তা নিউজ ডেস্ক
জেনেভায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এসেছে। সম্মেলনের সহ-সভাপতি পদে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়েছেন জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বৈশ্বিক শ্রমনীতি নির্ধারণের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ আরও দৃশ্যমান ভূমিকা পেল।
এই সম্মেলন আয়োজন করে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (International Labour Organization), যা বিশ্বজুড়ে শ্রমিক অধিকার, কর্মপরিবেশ, সামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মসংস্থান নীতিমালা নির্ধারণের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান। প্রায়ই একে “বিশ্ব শ্রম সংসদ” বলা হয়, কারণ এখানে শ্রম খাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সরকার, শ্রমিক ও মালিকপক্ষ একসঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
এ বছরের সম্মেলনে সভাপতিত্ব করছেন উরুগুয়ের শ্রম ও সামাজিক সুরক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী জুয়ান কাস্টিলো। তাঁর সঙ্গে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশের নাহিদা সোবহান, আর্জেন্টিনার জেরার্দো মার্তিনেজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টেন কফম্যান।
জেনেভায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ১৮৭টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। এখানে সরকারি প্রতিনিধি ছাড়াও শ্রমিক সংগঠন ও নিয়োগকর্তা সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন, যা আইএলওর ত্রিপক্ষীয় (tripartite) কাঠামোর মূল বৈশিষ্ট্য। এই কাঠামোর মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক শ্রম মান, নীতি এবং সুপারিশসমূহ গৃহীত হয়।
বাংলাদেশের সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়াকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি শ্রম অধিকার, শোভন কর্মসংস্থান এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরে। একই সঙ্গে এটি বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সক্রিয় ভূমিকারও স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য শুধু সম্মানজনক পদ নয়, বরং বৈশ্বিক শ্রম ইস্যুতে নীতিগত আলোচনায় আরও সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। এতে করে বাংলাদেশ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয়, মতৈক্য গঠন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
প্রতি বছর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি অংশ নেন। তারা কর্মসংস্থান, শ্রমিক নিরাপত্তা, ন্যূনতম মজুরি, সামাজিক সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের চ্যালেঞ্জসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব গ্রহণ আন্তর্জাতিক শ্রম ব্যবস্থাপনায় দেশের ক্রমবর্ধমান অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
Leave a Reply