তিস্তা নিউজ ডেস্ক
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীর গুলশান, বনানী ও হাতিরঝিল এলাকার লেক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ঘাটতি থাকায় অনেক ক্ষেত্রে সেবামূলক কর্মকাণ্ড প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিকল্প নেই। সে কারণেই দ্রুত নির্বাচন আয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট মাসের মধ্যে কোন পর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে হবে এবং কীভাবে নির্বাচন আয়োজন করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সরকার চায় জনগণের ভোটের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে।
নগরীর জলাধার ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর গুলশান, বনানী ও হাতিরঝিল লেকের পানি দূষণ কমাতে বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ওয়াসা ইতোমধ্যে লেক পরিষ্কার এবং দূষণের উৎস শনাক্তে কার্যক্রম জোরদার করেছে।
তার ভাষ্য, হাতিরঝিলের অন্যতম বড় সমস্যা হলো বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য ও সুয়ারেজ পানি সরাসরি জলাধারে এসে পড়া। এ সমস্যা সমাধানে সুয়ারেজ ব্যবস্থাকে ধাপে ধাপে দাশেরকান্দি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা বা কাজে গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ঢাকার পরিবেশ রক্ষায় নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে মীর শাহে আলম বলেন, ড্রেন, খাল কিংবা খোলা জায়গায় ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ না হলে লেক ও জলাধার দূষণমুক্ত রাখা কঠিন হবে। তাই নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণের পাশাপাশি সরকারি সংস্থাগুলোর চলমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন এবং নগর ব্যবস্থাপনায় চলমান সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে সেবার মান বাড়বে এবং নগরবাসী এর সুফল পাবে।
Leave a Reply