ক্রীড়া ডেস্ক
লিওনেল মেসিকে মাঠে নামানোর প্রয়োজনই পড়েনি। অধিনায়ককে পুরো ম্যাচ বেঞ্চে বসিয়ে রেখেই শক্তিশালী পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি পর্বের ম্যাচে হন্ডুরাসকে ২-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী জয় তুলে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
রোববার (৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে লিওনেল স্কালোনির দল। বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ তৈরি এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ—সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল আলবিসেলেস্তেরা। মাঝমাঠে দ্রুত পাসিং ও সংগঠিত ফুটবলে হন্ডুরাসকে প্রায় পুরো ম্যাচজুড়েই নিজেদের অর্ধে আটকে রাখে তারা।
প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না আর্জেন্টিনা। তবে ৩৭তম মিনিটে সেই অপেক্ষার অবসান হয়। বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন লাউতারো মার্টিনেজ। এই গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে লাউতারোর দারুণ পাস থেকে জুলিয়ানো সিমিওনে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন। দ্রুতগতির আক্রমণ থেকে আসা এই গোল কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
পুরো ম্যাচে বলের দখল ছিল প্রায় ৭২ শতাংশ সময় আর্জেন্টিনার পায়ে। তারা গোলমুখে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে মোট ৯টি অন-টার্গেট শট নেয়। বিপরীতে, হন্ডুরাস আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে তেমন কোনো চাপই তৈরি করতে পারেনি এবং পুরো ম্যাচে একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।
এই ম্যাচে মেসির পাশাপাশি রদ্রিগো ডি পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজসহ কয়েকজন নিয়মিত তারকাকে বিশ্রামে রাখা হয়। তবুও বিকল্প একাদশ নিয়ে মাঠে নেমে দুর্দান্ত সমন্বয় ও গভীরতার প্রমাণ দিয়েছে আর্জেন্টিনা। বেঞ্চের খেলোয়াড়দের এমন পারফরম্যান্স বিশ্বকাপের আগে কোচিং স্টাফের জন্যও ইতিবাচক বার্তা হয়ে এসেছে।
বিশ্বকাপের আগে নিজেদের কৌশল ও স্কোয়াড গভীরতা যাচাইয়ের লক্ষ্যেই এই প্রস্তুতি ম্যাচগুলো খেলছে আর্জেন্টিনা। দলটির আক্রমণভাগ, মাঝমাঠ এবং রক্ষণভাগের ভারসাম্য দেখে সমর্থকদের মধ্যেও আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
আগামী মঙ্গলবার আইসল্যান্ডের বিপক্ষে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। এরপর ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান। গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার অন্য দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।
Leave a Reply