আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারত ও ইসরাইলের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে ইসরাইলে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের একটি বিশাল ভাস্কর্য স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এই উদ্যোগকে দুই দেশের জনগণের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধন ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শিব রাজ্যাভিষেক দিবস উপলক্ষে গত সপ্তাহে মুম্বাইয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইসরাইলের কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাচ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ভারতীয় ইতিহাসে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের অবদান ও তার নেতৃত্বগুণ শুধু ভারতের জন্য নয়, বিশ্ব ইতিহাসের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা।
ইয়ানিভ রেভাচ এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা শিবাজি মহারাজের গুরুত্ব এবং ভারতের মানুষের কাছে তার গভীর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন। আমাদের লক্ষ্য হলো ইসরাইলের একটি বড় শহরে তার একটি বিশাল ভাস্কর্য স্থাপন করা, যা দুই দেশের বন্ধুত্বের দীর্ঘমেয়াদি প্রতীক হয়ে থাকবে।”
তিনি আরও জানান, এটি শুধু একটি শিল্প প্রকল্প নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ, যার মাধ্যমে ভারত ও ইসরাইলের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইসরাইলি পক্ষ মহারাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বিশেষ করে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের ঐতিহাসিক জীবন, প্রতীকী উপস্থাপন ও নকশা সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের সহায়তাও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইসরাইলি কূটনীতিকের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিস তাৎক্ষণিকভাবে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
এর আগে মহারাষ্ট্র সরকারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইয়ানিভ রেভাচ উল্লেখ করেন, “ইসরাইলে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের ভাস্কর্য স্থাপন ভারত-ইসরাইল সম্পর্কের একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক প্রতীক হয়ে উঠবে। বিশেষ করে মহারাষ্ট্র ও ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক এই উদ্যোগকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলবে।”
তিনি আরও বলেন, শিবাজি মহারাজের জীবন ও প্রশাসনিক দক্ষতা ইসরাইলের নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করানো এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।
মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত রাজ্যাভিষেক দিবসের অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল বলেন, তিনি ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের সময় ইসরাইল ও তার জাতীয় বীরদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা লক্ষ্য করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ইসরাইলে শিবাজি মহারাজের ভাস্কর্য স্থাপনের ধারণা আসে বলে জানান তিনি।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, শিব রাজ্যাভিষেক দিবসের এই বিশেষ মুহূর্তে ইসরাইলের কূটনীতিকের এমন ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জানান, মহারাষ্ট্র সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাস্কর্য প্রকল্প শুধু সাংস্কৃতিক বিনিময় নয়, বরং ভারত ও ইসরাইলের কৌশলগত সম্পর্কের প্রতীকী শক্তিশালীকরণ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। এটি ভবিষ্যতে দুই দেশের পর্যটন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
Leave a Reply