তিস্তা নিউজ ডেস্ক
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, প্রান্তিক কৃষকের সুরক্ষায় সরকারের ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণের আসল ও সুদ সম্পূর্ণ মওকুফ একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন কৌশলগত শক্তিতে রূপ দেবে।
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর গুলশানে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) কনফারেন্স হলে প্রাণ গ্রুপ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক কাঠামোতে ঋণ ও দায়ের চাপ উল্লেখযোগ্য। প্রায় ১২ লাখ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ, সমপরিমাণ দেশীয় ঋণ এবং প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকার নন-পারফর্মিং লোন (খেলাপি ঋণ) বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও প্রান্তিক কৃষকের ক্ষুদ্র ঋণ মওকুফ একটি গুরুত্বপূর্ণ জনবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় অংশ কৃষি খাতের ওপর নির্ভরশীল। এই খাত শুধু জিডিপিতে অবদান রাখে না, বরং দেশের বিপুল শ্রমশক্তিকে কর্মসংস্থানের সুযোগও দেয়। তাই কৃষি খাতের স্থিতিশীলতা মানেই সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি এখন ধীরে ধীরে শিল্পভিত্তিক কাঠামোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই রূপান্তর সফল করতে আধুনিক প্রযুক্তি, কারিগরি জ্ঞান এবং মূল্য সংযোজন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি। কাঁচা কৃষিপণ্যকে আধুনিক প্রক্রিয়াজাত শিল্পে রূপান্তর করা গেলে তা অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি রপ্তানি বাণিজ্যেও বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তিনি বলেন, এ ধরনের রূপান্তরের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও অগ্রগতি নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের তথ্যসমৃদ্ধ প্রতিবেদন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে সহায়তা করে এবং সরকারের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করে তোলে।
মন্ত্রী আরও জানান, কৃষি ও অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কিত বিশেষ প্রতিবেদনগুলো সংকলন করে নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও বাস্তবসম্মত হয়।
বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার আগে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ ঘোষণা করেছিলেন। সেই পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় সরকার এখন ‘উই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ ধারণা নিয়ে সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, যার অন্যতম প্রধান ভিত্তি কৃষি খাত।
অনুষ্ঠানে কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত শিল্প খাতে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের স্বীকৃতিস্বরূপ তিন বিভাগে (প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন) মোট ৭ জন সাংবাদিককে পুরস্কৃত করা হয়।
প্রিন্ট বিভাগে পুরস্কার পান দ্য ডেইলি স্টারের সুকান্ত হালদার, দ্য ডেইলি সানের রফিকুল ইসলাম ও এম মুনির হোসেন। টেলিভিশন বিভাগে চ্যানেল ২৪-এর দেলাওয়ার হোসেন দোলন ও একাত্তর টিভির রাকিব হোসেন। অনলাইন বিভাগে জাগো নিউজ ২৪-এর নাজমুল হোসেন ও একুশে পত্রিকা ডটকমের শরিফুল রুকন।
আয়োজকরা জানান, তিন সদস্যের জুরিবোর্ডের মূল্যায়নের মাধ্যমে এই সাংবাদিকদের নির্বাচন করা হয়। জুরিবোর্ডে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার খুরশিদ আহমেদ ফরহাদ এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের আউটরিচ ও কমিউনিকেশন পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কৃষি ও অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি খাতে এমন উদ্যোগ গবেষণা, তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা এবং নতুন বিনিয়োগের পথ আরও সুগম করবে।
Leave a Reply