তিস্তা নিউজ ডেস্ক
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় গৃহীত শোকপ্রস্তাব ও সংশ্লিষ্ট কার্যবিবরণী আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে পাঠিয়েছে বিধানসভা কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি দুই বাংলার কূটনৈতিক ও মানবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী ভারত এবং বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনেও গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধিবেশনের শুরুতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকপ্রস্তাব উত্থাপন ও গ্রহণ করা হয়। একই অধিবেশনে রাজ্যের প্রয়াত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, সাবেক মন্ত্রী, বর্তমান ও সাবেক বিধায়কদের স্মরণেও শোক প্রকাশ করা হয়। এ সময় পুরো সভায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং দিনের কার্যসূচি শোকজ্ঞাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখে অধিবেশন মুলতবি করা হয়।
পরবর্তীতে ৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্যপালের ভাষণের মাধ্যমে বিধানসভার নতুন অধিবেশন শুরু হয়।
এরপর ওই শোকপ্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ কার্যবিবরণী ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ কূটনৈতিক মিশনের কাছে প্রেরণ করা হয়। ২ জুন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রধান সচিব সৌমেন্দ্র নাথ বসু কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রাজ্য সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩ ফেব্রুয়ারির অধিবেশনে গৃহীত শোকবার্তার প্রাসঙ্গিক অংশ বাংলাদেশ মিশনের কাছে পাঠানো হলো। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের কাছেও এই শোকবার্তা পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি কেবল আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক যোগাযোগ নয়; বরং বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সম্পর্কের একটি প্রতীকী প্রকাশ। দুই অঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের দৃষ্টান্ত হিসেবেও এই পদক্ষেপকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আঞ্চলিক কূটনীতিতে এমন মানবিক যোগাযোগ দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে আরও গভীর করে।
Leave a Reply