তিস্তা নিউজ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহাদী আমিন জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের শিক্ষা কারিকুলামে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হবে। তিনি বলেন, স্কুল ভর্তি প্রক্রিয়ায় লটারির বদলে পুনরায় পরীক্ষাভিত্তিক পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা করছে সরকার।
সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে আগামী দিনের শিক্ষাখাত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মাহাদী আমিন জানান, শিক্ষকদের গুণগত মান বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার দিকে নজর রাখা সরকারের অগ্রাধিকার।
তিনি আরও বলেন, কোনো সরকার দায়িত্ব নেয়ার এক মাসের মধ্যে ইশতেহার বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলেও বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, খাল খননসহ অন্যান্য ইশতেহারিক পদক্ষেপ শুরু করেছে। তাই শিক্ষাখাতেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে, রোববার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ শিক্ষার্থী ভর্তিতে লটারির প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, লটারির কার্যকারিতা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে এটি বাতিল করে মেধা যাচাই বা ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বড় শহরগুলোতে ভর্তির তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে বিগত সরকার লটারির ব্যবস্থা করেছিল, তবে বর্তমান সরকার এর যৌক্তিকতা নিয়ে সন্দিহান। ভর্তি পদ্ধতি নির্ধারণের আগে অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত সংগ্রহ করা হবে।
শিক্ষাখাতে জনবল সংকট নিরসনে দেশে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে, তবে দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষা বলতে কেবল ইসলাম নয়, সব ধর্মের শিক্ষাকেও প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার।
মন্ত্রী আরও জানান, দেশে বর্তমানে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিবর্তে বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানোন্নয়নে সরকার বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনও বিবেচনা করা হবে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এবং মেধাকেন্দ্রিক ভর্তি প্রক্রিয়ার পুনঃপ্রবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, যা ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হতে পারে।
Leave a Reply