রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় বাসে আনুমানিক ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। জীবিত উদ্ধার হয়েছেন আট জন। এখনও আনুমানিক ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দল।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
দুর্ঘটনা ঘটেছে বুধবার বিকাল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে। বাসটি প্রায় ৬০ ফুট গভীরে ডুবে যায়। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযান শেষে রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে বাসটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয়দের সহায়তায় আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়, তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও পাঁচজন নারী। হাসপাতালে নেওয়ার পর দুই নারীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বাসের ভেতর থেকে ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং পাঁচজন শিশু (চারজন ছেলে ও একজন মেয়ে) রয়েছেন। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করেছে ২৩ জন, স্থানীয়দের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া দুইজনকে হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে, এবং নৌবাহিনীর ডুবুরিরা উদ্ধার করেছেন একজন।
উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ও দশজন ডুবুরি অংশ নেন। এছাড়া সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরাও যৌথভাবে উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ করেন। নিখোঁজ ছয়জনের উদ্ধারে উদ্ধারকারীরা কাজ করে যাচ্ছেন।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল রাতভর অক্লান্ত পরিশ্রম চালিয়ে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করেছেন এবং তৎক্ষণাৎ আহত ও জীবিতদের নিরাপদে সরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছেন।
Leave a Reply