তিস্তা নিউজ ডেস্ক
কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিন শুক্রবার রাতে কলেজে নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত করেন। তার সহপাঠীরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি মানসিক চাপ ও পরীক্ষার ফলাফলের কারণে চাপে ছিলেন।
অর্পিতা ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি খুলনা সদরে। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছোট। তিনি খুলনার সরকারি করোনেশন গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কেসিসি উইমেন কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেছিলেন। এরপর বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন।
শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই অর্পিতা ছিলেন পরিশ্রমী। প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় সব বিষয় উত্তীর্ণ হলেও এনাটমি বিষয়ে তিনি সমস্যার মুখোমুখি হন। পরবর্তী তিন বছরে তিনি আরও চারবার পরীক্ষা দিলেও সেই বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। বন্ধুরা জানিয়েছেন, ৮ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ব্যাচের তৃতীয় প্রফের ফল প্রকাশ করেছে। অন্য শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে পঞ্চম বর্ষে পৌঁছেছে, কিন্তু অর্পিতা এখনও প্রথম প্রফের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি।
তার ভাই শাহরিয়ার আরমান বলেন, অর্পিতার মধ্যে আত্মহত্যার কোনো মানসিক প্রবণতা ছিল না। মূল কারণ ছিল কলেজের চাপ এবং পরীক্ষার ফলাফলের স্ট্রেস। তিনি আরও বলেন, অর্পিতা বিশেষভাবে এনাটমি বিভাগের একজন শিক্ষকের আচরণের কারণে মানসিক চাপ অনুভব করতেন। যদিও অর্পিতা অন্যান্য সব বিষয় পাস করেছেন, একটি বিষয়েই তিনি আটকে ছিলেন।
শাহরিয়ার উল্লেখ করেন, তিনি শেষবার তার বোনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। ফর্ম ফিলাপের জন্য কিছু টাকা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, এবং অর্পিতা তার ভাইকে জানিয়েছিলেন যে বাড়িতে বিষয়টি খুলে বলতে পারছেন না এবং কিছু ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঘটনার পরে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফজলুল হক লিটন এবং এনাটমি বিভাগের প্রধান ডা. মনিরা জহিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, তবে তারা ফোন রিসিভ করেননি। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার কর্মকর্তা জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Leave a Reply