তিস্তা নিউজ প্রতিবেদক
বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিত মুখ কারিনা কায়সার আর নেই। ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর গতকাল রোববার বিকেলে তার মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছায় তার মরদেহ।
দেশে ফেরার পর থেকেই শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখতে ভিড় করেন স্বজন, সহকর্মী, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা। রাজধানীর বনানী ডিওএইচএসের একটি মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বনানী দরবার শরিফে দ্বিতীয় জানাজা এবং রাত ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তৃতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়। আজ সকালে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নানাবাড়িতে তাকে দাফন করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের মাধ্যমে অল্প সময়েই জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন কারিনা। তার ভিডিওগুলোতে যেমন ছিল প্রাণচাঞ্চল্য, তেমনি ছিল সমাজের নানা অসঙ্গতি নিয়ে সচেতন বার্তা। ফলে তরুণ দর্শকদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ভীষণ আপন একজন মানুষ।
মেয়েকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তার বাবা কায়সার হামিদ। তিনি বলেন,
“এত মানুষ কারিনাকে ভালোবাসে, সেটা আগে বুঝিনি। মানুষের এই ভালোবাসা আমাকে গর্বিত করেছে।”
কারিনার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কথা বলেন তিনি। জানান, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল না তার মেয়ের। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে তিনি সবসময়ই সাহসী ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমে জ্বর দেখা দিলেও পরে তার শরীরে গুরুতর সংক্রমণ ধরা পড়ে। একইসঙ্গে হেপাটাইটিস-এ ও ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কয়েক দিন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে সেখানেই মারা যান তিনি।
কনটেন্ট নির্মাণের বাইরে ওটিটি ও নাটকের জগতেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন কারিনা। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’। এই কাজগুলো দর্শকমহলে প্রশংসিত হয়েছিল।
তার অকাল প্রয়াণে দেশের শোবিজ অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে সহকর্মী, তারকা ও ভক্তরা স্মরণ করছেন প্রাণবন্ত এই তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে।
Leave a Reply