ইনক্লুসিভ সমাজ বিনির্মাণে কাজ করছে সরকার : সমাজকল্যাণমন্ত্রী
Reporter Name
Update Time :
বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
১৫
Time View
তিস্তা নিউজ ডেস্ক
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বহুমাত্রিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, পুনর্বাসন এবং খেলাধুলার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
বুধবার (২০ মে) ঢাকার সাভারে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য নির্মাণাধীন ক্রীড়া কমপ্লেক্স প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিবন্ধী শিশুরা অবহেলার শিকার হবে না; বরং তারা নিজেদের প্রতিভা ও সক্ষমতা নিয়ে সমাজে সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।”
তিনি জানান, একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার থেকেই সরকার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে শিক্ষা ও কর্মদক্ষতার পাশাপাশি খেলাধুলাকেও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সাভারে নির্মাণাধীন ক্রীড়া কমপ্লেক্সের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি শুধু একটি খেলার অবকাঠামো নয়; বরং বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ট্রেনিং সুবিধার পাশাপাশি থাকবে মেডিকেল ফিজিওথেরাপি ইউনিট, জিমনেশিয়াম, সুইমিং পুল, ইনডোর ও আউটডোর গেমিং জোন, পুনর্বাসন সেবা এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।
তিনি বলেন, “আমাদের দেশে শারীরিক, মানসিক, সাইকোলজিক্যাল ও ডেভেলপমেন্টালসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধিতা রয়েছে। এই শিশু ও তরুণদের অনেকেই সুযোগের অভাবে নিজেদের মেধা বিকাশ করতে পারে না। সরকার সেই সীমাবদ্ধতা দূর করতে চায়।”
মন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের জন্য প্যারা অলিম্পিক আয়োজন করা হয় এবং বাংলাদেশের খেলোয়াড়রাও ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। অনেকেই দেশের জন্য পদক অর্জন করে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমরা চাই উপজেলা থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিশেষ ক্রীড়া প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে উঠুক। প্রতিভাবান প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদরা যেন আন্তর্জাতিক মানে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।”
অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, প্রকল্পটি ২০২১ সালে গ্রহণ করা হলেও নানা প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতায় কাজের অগ্রগতি ব্যাহত হয়। তবে বর্তমানে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের আশা করছে সরকার।
তিনি জানান, প্রকল্পটি নদীর তীরবর্তী মনোরম পরিবেশে নির্মিত হচ্ছে এবং এটি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
পরিদর্শনকালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দুর্নীতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত প্রকল্পে কোনো কেনাকাটা বা নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। মূলত অবকাঠামো নির্মাণকাজ চলছে এবং তা সরকারি সংস্থা গণপূর্ত বিভাগ তদারকি করছে।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সঠিক মান বজায় রেখে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
Leave a Reply