বিদ্যুতের নতুন দাম জুন থেকে কার্যকর, চাপ বাড়ার আশঙ্কা
Reporter Name
Update Time :
সোমবার, ১ জুন, ২০২৬
২৩
Time View
তিস্তা নিউজ ডেস্ক
ঈদুল আজহার পরপরই দেশের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য আসছে বাড়তি খরচের চাপ। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) শিগগিরই বিদ্যুতের নতুন খুচরা মূল্য ঘোষণা করতে যাচ্ছে। কমিশন-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং নতুন ট্যারিফ জুন মাস থেকেই কার্যকর করা হতে পারে।
তবে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য থাকছে কিছুটা স্বস্তি। ‘লাইফ লাইন’ ক্যাটাগরিতে শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। অর্থাৎ এই সীমার মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা আগের দরে বিল পরিশোধ করবেন।
বিইআরসি সূত্র জানায়, ঈদের আগেই বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের সব ধরনের প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন মূল্যহার জুন মাস থেকেই কার্যকর করার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
নীতিগতভাবে এই মূল্য সমন্বয়ের পেছনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানো এবং আর্থিক চাপ সামাল দিতে সরকার ধাপে ধাপে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের পথে এগোচ্ছে।
এর আগে বিদ্যুৎ খাতের ছয়টি বিতরণ কোম্পানি আলাদা আলাদা প্রস্তাব জমা দেয় বিইআরসির কাছে। প্রস্তাব অনুযায়ী—
পিডিবি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা, এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।
পরবর্তীতে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়। কমিশন পর্যায়ে এখন এই সুপারিশকে ভিত্তি ধরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
বিইআরসির এক কমিশনার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত ট্যারিফ নির্ধারণ করা হবে। তবে গড় মূল্যবৃদ্ধি এক টাকার নিচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণে ব্যবহারভিত্তিক ধাপে ধাপে মূল্যহার নির্ধারণ করা হবে। এতে—
২০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীরা তুলনামূলক কম দামের সুবিধা পাবেন, ২০০ থেকে ৪০০ ইউনিট এবং ৪০০ থেকে ৬০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য ধাপে ধাপে দাম বাড়বে, আর ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধির চাপ পড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই মূল্যহার কার্যকর হলে গৃহস্থালি খরচের পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্যিক উৎপাদন ব্যয়ও বাড়তে পারে। এর ফলে বাজারে নিত্যপণ্যের দামে পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
Leave a Reply