তিস্তা নিউজ ডেস্ক
দৈনন্দিন সংসদীয় দায়িত্ব পালন ও সাধারণ জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু। সেখানে তিনি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে চলাফেরা, ব্যয়, ব্যক্তিগত চাপ এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি জানান, সংসদ অধিবেশন শেষে বাসায় ফেরার পথও তার জন্য এক ধরনের আলাদা অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ায়, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তবতা আরও কাছ থেকে অনুভব করেন তিনি।
পোস্টে তিনি ব্যক্তিগত এক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, অনেক পেশাজীবীই দায়িত্বের কারণে আগের মতো সাধারণ গণপরিবহন ব্যবহার করতে পারেন না। একই সঙ্গে সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের যাতায়াত অভিজ্ঞতাও তিনি তুলে ধরেন।
যাতায়াত ব্যয়ের বিষয়ে তিনি জানান, গত কয়েক দিনে উবার ও পাঠাও ব্যবহারে তার প্রায় ৮ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। গরম ও আরামদায়ক যাত্রার প্রয়োজনের কারণে তিনি তুলনামূলকভাবে প্রিমিয়াম রাইড ব্যবহার করেন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও লেখেন, সংসদ ভবনে প্রবেশের সময় যানবাহনের সুবিধা থাকলেও বের হওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রায় এক কিলোমিটার হেঁটে বের হতে হয় বলে তিনি জানান, যেখানে বই, ব্যাগ ও নথিপত্র বহন করতে গিয়ে অনেক সময় কষ্টকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
সংসদ ভবনের বাইরে সিএনজি বা অন্যান্য পরিবহন পাওয়া নিয়েও তিনি অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তার ভাষায়, অনেক সময় সিএনজি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং সাধারণ পরিবহন ব্যবস্থায় ফেরার সময় আশপাশের মানুষের কৌতূহলী দৃষ্টি ও প্রতিক্রিয়াও তাকে লক্ষ্য করতে হয়।
ডা. মিতু আরও জানান, সংসদ সদস্যদের জন্য পূর্বে থাকা কিছু সুবিধা বর্তমানে পরিবর্তিত হয়েছে, যার ফলে নতুন ও তুলনামূলকভাবে সাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা সংসদ সদস্যদের জন্য ব্যক্তিগত ব্যয় সামলানো অনেক সময় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি উল্লেখ করেন, সংসদ সদস্যদের জন্য আলাদা কোনো সহজ লোন বা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে কি না—এ বিষয়েও তিনি খোঁজ নিয়েছেন, তবে তেমন কোনো স্পষ্ট সুবিধার তথ্য পাননি বলে জানান।
ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পোশাক-পরিচ্ছদেও তাকে বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয়। নিয়মিত ব্যবহারে দামি জামদানি শাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি অনলাইনে তুলনামূলক কম দামের শাড়ি খুঁজে দেখেন বলেও উল্লেখ করেন।
তবে কঠোর বাস্তবতার মাঝেও পরিবারের ভালোবাসার দিকটি তাকে স্বস্তি দেয় বলে জানান তিনি। বিশেষ করে শ্বশুরবাড়ির একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের কাছ থেকে শাড়ি উপহার পাওয়ার বিষয়টি তাকে আবেগী করে তোলে।
সবশেষে তিনি লেখেন, ব্যস্ত দিনের শেষে যখন সাধারণ মানুষ তাকে দেখে ডাক দেয়—“মিতু আপু”—তখন সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায় এবং সেটিই তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন তিনি।
তার এই ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে অনেকেই একজন সংসদ সদস্যের বাস্তব জীবন ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার সংযোগ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতামত প্রকাশ করছেন।
Leave a Reply