1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tistanewsbd : Md. Amdadul Hoque
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৬ অপরাহ্ন

“রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র: উৎপাদন শুরুর কাছাকাছি বাংলাদেশ”

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২২ Time View

তিস্তা নিউজ ডেস্ক

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি নতুন ইতিহাস রচিত হতে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাস্তব ধাপে প্রবেশ করছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত ভিভিইআর-১২০০ (VVER-1200) প্রযুক্তির এই কেন্দ্রটি দুই ইউনিটবিশিষ্ট। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১২০০ মেগাওয়াট, ফলে পুরো কেন্দ্র চালু হলে মোট প্রায় ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর কোরে পারমাণবিক জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপন করা হবে। একটি রিঅ্যাক্টরে সাধারণত ১৬০ থেকে ১৬৫টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি ব্যবহৃত হয়, যেখানে প্রতিটি অ্যাসেম্বলিতে একাধিক ইউরেনিয়াম রড থাকে। প্রয়োজনীয় জ্বালানি ইতোমধ্যে দেশে আনা হয়েছে এবং কঠোর নিরাপত্তায় সংরক্ষণ করা হয়েছে।

জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে এবং এতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে। এই পর্যায়ে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে রিঅ্যাক্টর কোরে জ্বালানি স্থাপন করা হয়, যা প্রকল্পের সবচেয়ে সংবেদনশীল ধাপগুলোর একটি।

লোডিং শেষ হলে বিভিন্ন পর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যেমন সিস্টেম টেস্ট, সেফটি ভেরিফিকেশন এবং কমিশনিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। সবকিছু সফলভাবে শেষ হলে রিঅ্যাক্টর “ক্রিটিক্যালিটি” অর্জনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে। এরপর কয়েক মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নকশাগত আয়ুষ্কাল প্রায় ৬০ বছর, যা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে ৮০ থেকে ৯০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। এটি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি বড় উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একটি ফুয়েল সাইকেলে সাধারণত ১২ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত একটানা বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়। এরপর আংশিকভাবে ব্যবহৃত জ্বালানি প্রতিস্থাপন করা হয়, যা কেন্দ্রের নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কিছুটা কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও বড় পরিসরের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। যদিও প্রাথমিক উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক বেশি হতে পারে, তবে এটি ভবিষ্যতে একটি নির্ভরযোগ্য ও কৌশলগত বিদ্যুৎ উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 JaldhakaITPark
Theme Customized By LiveTV