ডেস্ক রিপোর্ট:
০১ মার্চ ২০২৬ (স্থানীয় সময়) সাধারণ সংবাদমাধ্যম ও সরকারি সূত্রের ভিত্তিতে জানা গেছে যে ইরান রাজধানী তেহরানে মার্কিন-ইসরাইলি মনোযোগকেন্দ্রীয় হামলার পর প্রতিশোধ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)-এর দিকে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন গোলা নিক্ষেপ করেছে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে ১৩৭টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ২০৯টি ড্রোন দেশটির উদ্দেশ্যে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। এর ফলে আবুধাবি ও দুবাইসহ বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয় এবং বিমান চলাচল সীমিত করা হয়েছে।
UAE এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে আরব আমিরাতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে এবং তার মাধ্যমে মোট ১৩৭টি লক্ষ্যভিক্তিক ব্যালিস্টিক মিসাইলের মধ্যে ১৩২টি ধ্বংস করা হয়েছে, আর বাকী ৫টি মিসাইল সমুদ্রের দিকে পড়ে গেছে। একইভাবে ২০৯টি ড্রোনের মধ্যে ১৯৫টি সফলভাবে আটকানো হয়েছে এবং ১৪টি ড্রোন আমিরাতের স্থল ও সমুদ্র এলাকা পর্যন্ত এসে পতিত হয়েছে, যেগুলো কিছু স্থানে সামান্য ভৌত ক্ষতি করেছে।
এই হামলার সময় ভূপাতিত ড্রোন বা মিসাইলের ডিব্রিস (উৎক্ষেপিত অংশ) কয়েকটি স্থানে পড়ে সামান্য বসতিস্থল বা অবকাঠামোয় ক্ষতি হয়েছে এবং একজন মারা যাওয়ার খবর এবং কিছু আহত হওয়ার ঘটনাও জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সেবা কর্মীদের উদ্ধার ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলাকে “জাতীয় সার্বভৌমত্বে সরাসরি হামলা” হিসেবে কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে এবং দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করার পূর্ব ঘোষণা দিয়েছে।
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে তা নিয়ে প্রচুর উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সরকারী সূত্র এই পরিস্থিতিকে একটি বড় নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হওয়া হিসেবে উল্লেখ করেছে।
Leave a Reply