1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tistanewsbd : Md. Amdadul Hoque
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন

স্মার্ট কৃষির পথে বড় পদক্ষেপ, সরকারের মহাপরিকল্পনা ঘোষণা

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ Time View

তিস্তা নিউজ ডেস্ক

সরকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি সমন্বিত ‘স্মার্ট কৃষি’ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মূল লক্ষ্য হলো কৃষিকে আধুনিক, টেকসই ও লাভজনক খাতে রূপান্তর করা। এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়, যার মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন সেবা এক প্ল্যাটফর্মে এনে সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা মোট ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সেবা সরাসরি পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে ন্যায্যমূল্যে বীজ, সারসহ কৃষি উপকরণ সরবরাহ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রদান, স্বল্পমূল্যে কৃষিযন্ত্রপাতি সংগ্রহের সুযোগ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বিমা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ, কৃষি প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া ও বাজার তথ্যপ্রাপ্তি এবং ফসলের রোগ-বালাই দমন সংক্রান্ত পরামর্শ। এর ফলে কৃষকদের উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও বিপণন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

কৃষি উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল বীজ ব্যবহার, সুষম সার প্রয়োগ এবং আধুনিক সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ে। পাশাপাশি কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকির মাধ্যমে ট্রাক্টর, হারভেস্টার ও রিপারের মতো যন্ত্রপাতি কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করা হচ্ছে, যা শ্রম ও সময় উভয়ই সাশ্রয় করবে।

জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং পতিত জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনতে ‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অঞ্চলভিত্তিক মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী ফসল নির্ধারণ করা হয়, ফলে উৎপাদন বাড়ে এবং জমির অপচয় কমে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চল ও চরাঞ্চলের পতিত জমি চাষের আওতায় আনতে আলাদা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ধাননির্ভর কৃষি ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে ফল, সবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ফুল চাষে সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষিতে বৈচিত্র্য আনা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে কৃষকদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

কৃষকদের আর্থিক সহায়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভর্তুকি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ করা হচ্ছে এবং স্বল্প সুদের কৃষিঋণ ও ফসল বিমা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে লক্ষাধিক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে।

কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়নে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে। ফল ও সবজি সংরক্ষণের জন্য মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল ও ক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।

কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অধিক ফলনশীল, রোগ প্রতিরোধী, স্বল্পমেয়াদি এবং জলবায়ু সহনশীল নতুন ফসলের জাত উদ্ভাবনের কাজ চলছে। এর ফলে পরিবর্তিত জলবায়ুতেও কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ‘ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় লবণাক্ততা, খরা ও বন্যা সহনশীল ফসল চাষ, উন্নত পানি ব্যবস্থাপনা, কম সেচ ও কম রাসায়নিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি AWD পদ্ধতি, প্রি-পেইড সেচ ব্যবস্থা, মোবাইল অ্যাপভিত্তিক কৃষি পরামর্শ এবং প্রিসিশন এগ্রিকালচার প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব, দক্ষ ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 JaldhakaITPark
Theme Customized By LiveTV