তিস্তা নিউজ ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘রাজাকার’ প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের বক্তব্য ঘিরে সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়।
বক্তব্যের শুরুতেই ফজলুর রহমান অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের কিছু সদস্য তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে ‘ফজা পাগলা’ বলে সম্বোধন করেন। এরপর তিনি বিরোধী দলের এক নেতাকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ও শহীদ পরিবারের সদস্য দাবি করেন এবং একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী করেন—এটি “ডাবল অপরাধ” বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই মন্তব্যের পরপরই সংসদে বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন। মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংসদ কক্ষ হট্টগোলে মুখর হয়ে ওঠে। পরে স্পিকার হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এরপর বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্যে ফজলুর রহমানের মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তার ব্যক্তিগত পরিচয় ও রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি কোন আদর্শের রাজনীতি করব, তা আমার সাংবিধানিক অধিকার। এ ধরনের মন্তব্য নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন করে।”
তিনি আরও বলেন, তার মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পরিচয়কে চ্যালেঞ্জ করা গুরুতর বিষয় এবং স্পিকারের কাছে অনুরোধ জানান, সংশ্লিষ্ট অসংসদীয় বক্তব্য রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার।
অন্যদিকে, বক্তব্যের এক পর্যায়ে ফজলুর রহমান প্রতীকী ভাষায় বলেন, “এ দেশে শুধু ফুল নয়, সংগ্রামের প্রতীকও আছে। যতদিন ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার’ থাকবে, ততদিন মুক্তিযোদ্ধারা জিতবে, রাজাকার কখনো জয়ী হতে পারবে না।”
তিনি আরও হাওর অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন এবং ৩৫টি জেলা নিয়ে একটি পৃথক হাওর মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানান।
সব মিলিয়ে ‘রাজাকার’ ইস্যুকে কেন্দ্র করে সংসদের প্রথম অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যা পরে স্পিকারের হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
Leave a Reply