ক্রীড়া ডেস্ক
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। নাহিদ রানার আগুনঝরা বোলিং, তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত স্পেল এবং ব্যাটারদের দায়িত্বশীল পারফরম্যান্সে পাকিস্তানকে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে টাইগাররা। এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের আধিপত্যের নতুন অধ্যায়ও রচনা করল বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম জয় পেতে বাংলাদেশের অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ ২০ বছর। এর আগে টানা ১১টি টেস্টে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল টাইগারদের। অবশেষে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ এবং সেই সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে ইতিহাস গড়ে। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই এবার মিরপুরেও পাকিস্তানকে পরাজিত করে টাইগাররা প্রমাণ করল, তারা এখন টেস্ট ক্রিকেটে নতুন শক্তি।
মঙ্গলবার (১২ মে) টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে ২৬৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। কিন্তু শুরু থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে সফরকারীরা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদের বলে কটবিহাইন্ড হয়ে ফেরেন ওপেনার ইমাম-উল হক। এরপর দ্রুতই চাপ বাড়িয়ে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। ওপেনার আজান আওয়াইস ১৫ এবং অধিনায়ক শান মাসুদ মাত্র ২ রান করে ফিরলে ৬৮ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান।
চতুর্থ উইকেটে আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তাদের ৫১ রানের জুটি পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরানোর আভাস দিলেও সেই জুটি ভাঙেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। দারুণ ব্যাট করা আব্দুল্লাহ ফজল ১১৩ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ৬৬ রান করে এলবিডব্লিউ হন। পরের ওভারেই সালমান আগাকে ফেরান তাসকিন আহমেদ।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে তুলে নেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। নিজের টানা দুই ওভারে তিনি সৌদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ানকে সাজঘরে পাঠিয়ে পাকিস্তানের শেষ আশা ভেঙে দেন। দুই ব্যাটারই ১৫ রান করে আউট হন। পরে তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে হাসান আলিও এলবিডব্লিউ হলে দ্রুতই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ১৬৩ রানেই অলআউট হয় সফরকারীরা।
এর আগে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের দায়িত্বশীল ফিফটিতে ৪১৩ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে পাকিস্তান আজান আওয়াইসের সেঞ্চুরিতে ৩৮৬ রান সংগ্রহ করে। প্রথম ইনিংসে ২৮ রানের লিড পায় টাইগাররা।
দ্বিতীয় ইনিংসে শান্ত, মুমিনুল, মুশফিক ও মেহেদি হাসান মিরাজের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ফলে পাকিস্তানের সামনে ২৬৮ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়। তবে শেষ দিনে বাংলাদেশের পেস ও স্পিন আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি সফরকারীরা।
এই জয়ে শুধু সিরিজে এগিয়েই যায়নি বাংলাদেশ, বরং টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের সামর্থ্যেরও বড় প্রমাণ দিয়েছে। তরুণ পেসার নাহিদ রানার গতি, তাসকিনের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং তাইজুলের অভিজ্ঞ স্পিনে মিরপুর টেস্ট হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের জন্য স্মরণীয় এক জয়। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা জয় হিসেবেই বিবেচিত হবে।
Leave a Reply