তিস্তা নিউজ ডেস্ক
অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অলরাউন্ডার নাসির হোসেন এবং তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় আগামী ১০ জুন ঘোষণা করা হবে। বুধবার (৬ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ দিন ধার্য করেন।
দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়। আদালতে মোট ১০ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন বলে জানা গেছে। এর আগে ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির হোসেন ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু করেন। একই মামলায় তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার একটি আদালতে তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান এ মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাকিব ও তামিমার বিয়ে হয় এবং তাদের একটি আট বছর বয়সী কন্যাসন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি নাসির ও তামিমার বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সামনে আসে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় তামিমা নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী। পাশাপাশি নাসির তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিজের সঙ্গে নিয়ে যান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে রাকিব হাসান ও তার সন্তান মানসিক ও সামাজিকভাবে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হন এবং তার ব্যক্তিগত মর্যাদাও ক্ষুণ্ন হয় বলে দাবি করা হয়।
মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান সাংবাদিকদের বলেন, এই মামলায় যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়, তবে সমাজে ব্যভিচার, পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্কের প্রবণতা কমবে। তার মতে, এ ধরনের রায় সামাজিকভাবে একটি শক্ত বার্তা দেবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন, এটি একটি ব্যতিক্রমী মামলা, যেখানে একজন ব্যক্তি সামাজিক চাপ উপেক্ষা করে ন্যায়বিচারের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রেই পারিবারিক বিরোধে সামাজিক লজ্জা ও চাপের কারণে মানুষ আইনি পথে যান না। তবে এই মামলায় বাদী আদালতের মাধ্যমে বিচার চেয়ে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে আলোচিত এই মামলার রায় ঘিরে ক্রীড়া ও সামাজিক অঙ্গনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আগামী ১০ জুন ঘোষিত রায়ের দিকে এখন সবার নজর রয়েছে।
Leave a Reply