ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে উদ্বেগ, ৭ কোটি মানুষ মরুভূমির হুমকিতে: এ্যানি
Reporter Name
Update Time :
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬
১৮
Time View
তিস্তা নিউজ ডেস্ক
ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল আজ পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা, অর্থাৎ ২৪ থেকে ২৬টি জেলা পানির স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে ধীরে ধীরে মরুকরণের ঝুঁকিতে পড়ছে। এতে প্রায় ৭ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে রয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘জাতীয় নদী দিবস’ উপলক্ষে নোঙর ট্রাস্ট আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ফারাক্কার বিরূপ প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে দেশের নদীনির্ভর অঞ্চলে। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, পানির প্রবাহ হ্রাস এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকট কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনেক এলাকায় নদী শুকিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, এই সংকট মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষি ও পানিব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সমাধান আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দেখেছেন প্রকল্পটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ পড়ে আছে। তাই নতুন করে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আইডব্লিউএম, সিইজিআইএস ও ওয়ারপোসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত ও তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পদ্মা ব্যারেজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০২ সালে এ প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষা শুরু হলেও পরবর্তীতে তা স্থবির হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকার আবারও প্রকল্পটি চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কারিগরি যাচাই-বাছাই চলছে। দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন ও গঙ্গা চুক্তি প্রসঙ্গে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, চুক্তি অনুযায়ী নিয়মিত পানির প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উজান ও ভাটিতে পানির পরিমাপের ভারসাম্য বজায় রাখতে দুই দেশের যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) কাজ করছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি বিশেষজ্ঞ দল কলকাতায় গিয়ে ফারাক্কা ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেছে বলেও তিনি জানান।
আলোচনা সভায় দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সরকার নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে একটি গোষ্ঠী পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর দেশ পুনর্গঠনের কাজ চলছে। এ সময়ে দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন হলেও কিছু মহল অযথা অপপ্রচার ও উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চা ও রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রাখতে সবাইকে সংযমী হতে হবে। রাস্তা অবরোধ বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দেশের নদী রক্ষা, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।
Leave a Reply