1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tistanewsbd : Md. Amdadul Hoque
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন

বিদেশে কাজের প্রলোভন, লিবিয়ায় গিয়ে জিম্মি ১০ বাংলাদেশি যুবক

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৭৩ Time View

তিস্তা নিউজ ডেস্ক:

ইতালিতে গিয়ে পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করার স্বপ্নে বাড়ি ছেড়েছিলেন Jamalganj Upazila-র একই গ্রামের ১১ যুবকসহ মোট ১৩ জন। মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জনপ্রতি ১৩–১৪ লাখ টাকায় চুক্তি করে তারা বিদেশ যাত্রা শুরু করেছিলেন। তবে কাঙ্ক্ষিত ইতালিতে পৌঁছানো তো দূরের কথা, বর্তমানে তাদের অধিকাংশই Tripoli, Libya-তে মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

১৩ জনের মধ্যে একজন বর্তমানে লিবিয়ায় পুলিশের হাতে আটক রয়েছেন। অন্য ১২ জন গত ১২ দিন ধরে ত্রিপোলিতে জিম্মি রয়েছেন এবং তাদের ওপর চালানো হচ্ছে নির্মম নির্যাতন। জিম্মিকারীরা হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলে এই নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে প্রত্যেক পরিবারের কাছ থেকে জনপ্রতি ২৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে।

জিম্মি থাকা যুবকদের মধ্যে ১০ জনের বাড়ি Jamalganj Upazila-র ফেনারবাঁক ইউনিয়নের নাজিমনগর গ্রামে। তারা হলেন— জীবন মিয়া (২৫), আব্দুল কাইয়ুম (২৬), মনিরুল ইসলাম (২৪), মামুন মিয়া (২৭), আতাউর রহমান (২৮), এনামুল হক (২৬), আতাউর রহমান (২৯), আমিনুল ইসলাম (২৫), সফিকুল ইসলাম (৩২) এবং নিলয় মিয়া (২২)। নুরু মিয়ার বড় ছেলে ইয়াছিন মিয়া (৩০) লিবিয়ায় পুলিশের হাতে আটক রয়েছেন। এছাড়া আবুল হামজা, আবুল কালাম এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার সোহেল মিয়াও জিম্মি আছেন।

স্বজনদের অভিযোগ, যুবকদের পাঠানোর জন্য নাজিমনগর গ্রামের শহীদ মিয়ার (মন্টু) স্ত্রী দিলোয়ারা বেগম, তার ছেলে হুমায়ুন কবির এবং জামাতা নজরুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিজনকে ১৩–১৪ লাখ টাকায় মৌখিক চুক্তি হয়েছিল। টাকা পরিশোধ করার পরও কেউই ইতালি পৌঁছাতে পারেননি।

গত ২৮ জানুয়ারি তারা বাড়ি ছাড়েন। প্রথমে আবুধাবি, এরপর কুয়েত ও মিশর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি সাগরপথে ছোট নৌকায় ইতালি পাঠানোর আগে মাফিয়া চক্র তাদের জিম্মি করে।

স্বজনদের মতে, জিম্মিকারীরা বাংলা ভাষাভাষী লোক দিয়ে ফোন করিয়ে ভিডিও দেখাচ্ছে এবং জনপ্রতি ১২ লাখ টাকা দিলে আগামীকাল রোববার রাতেই মুক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরিবারগুলো গরু-বাছুর, জমি বিক্রি ও ঋণ করে মুক্তিপণ জোগার করছে।

জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী জানিয়েছেন, এই ধরনের অভিযোগ তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা Mushfiqun Noor জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি দেখা গেছে এবং খোঁজ-খবর নেওয়া হবে।

পরিবারের স্বজনরা গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, কারণ এত বড় অর্থ ব্যয় করেও যুবকদের জীবন এখন বিপদে রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 JaldhakaITPark
Theme Customized By LiveTV