আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য আলোচনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার দাবি সরাসরি নাকচ করেছে তেহরান। মুম্বাইয়ে ইরানের দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বর্তমানে কোনো সরাসরি আলোচনা চলছে না। বরং বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষ বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কিছু প্রস্তাব আদান-প্রদান হয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোই ইরানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং অযৌক্তিক হিসেবে বিবেচিত।
তেহরান আরও স্পষ্ট করে বলেছে, এ ধরনের কোনো প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সম্পৃক্ততার দাবি সঠিক নয়। ইসলামাবাদ যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে—এমন বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছে ইরান। ফলে এ ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট বিভেদ দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসাক দার ভিন্ন সুরে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, তিনি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছেন। তাদের মতে, সম্ভাব্য সংলাপের জন্য ইসলামাবাদ একটি ইতিবাচক ও সহায়ক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে।
এদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সংলাপ শুরু হয়নি, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং তার জবাবও দিয়েছে তেহরান। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পরবর্তীতে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং সামরিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বর্তমানে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে পারস্পরিক অবিশ্বাস, কঠোর শর্ত এবং রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে এই সংলাপ বাস্তবায়ন এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়ে গেছে।
Leave a Reply