মোনাব্বেরুল হক মোনা জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ পর্যায়ে বিশেষ কার্যক্রম শুরু করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বসতবাড়ি ও রাস্তার ধারে সজিনা (মরিঙ্গা) চারা ও কাটিং রোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে কৃষকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ চলছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় “৮০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের মাঠ-সংযুক্তির অংশ হিসেবে বসতবাড়ি ও রাস্তার ধারে সজিনা চারা/কাটিং রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন” অনুষ্ঠিত হয়। একইসঙ্গে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে একাধিক উঠান বৈঠক ও সচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য সজিনা গাছ রোপণ অত্যন্ত কার্যকর একটি উদ্যোগ। এ ধরনের কর্মসূচি গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং পুষ্টি ঘাটতি পূরণে সজিনা চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বসতবাড়ির আশপাশ ও রাস্তার ধারে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো হলে একদিকে পরিবেশ সুরক্ষা হবে, অন্যদিকে কৃষকরা বাড়তি আয়ও করতে পারবেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে জলঢাকা পৌরসভাসহ উপজেলার সব ইউনিয়নে এ ধরনের উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। এর অংশ হিসেবে কৃষকদের মাঝে সজিনা চারা বিতরণ, প্রশিক্ষণ এবং ব্যবহারিক রোপণ প্রদর্শনী চালানো হচ্ছে।
কর্মসূচিতে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রশিক্ষণার্থী ও স্থানীয় কৃষকরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, রাস্তার ধারে ও বাড়ির আঙিনায় সজিনা গাছ রোপণ শুধু পরিবেশবান্ধবই নয়, এটি পুষ্টির ঘাটতি পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে এটি সহায়ক হতে পারে।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, এই ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি হচ্ছে এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা বাড়ছে। এতে ভবিষ্যতে সবজি উৎপাদন ও কৃষি অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Leave a Reply