তিস্তা টিভি ডেস্ক
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার এখন টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও চিকিৎসাসেবা আরও জোরদার করা বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, যেসব শিশু এখনো হামের টিকা পায়নি, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে সংকট মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়াতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে মাঠপর্যায়ে মাইকিংসহ বিভিন্ন প্রচারণা চলছে। যেসব এলাকায় টিকা পৌঁছায়নি, সেসব শিশুদের শনাক্ত করে নিয়ে এসে টিকা দেওয়া হবে। টিকা দেওয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সময় লাগে, সে সময় পর্যন্ত আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, হামের চিকিৎসায় সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, ওষুধ এবং আইসিইউ সুবিধা রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের ঘাটতি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, সবাইকে নিয়ে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হচ্ছে।”
টিকা সংকটের বিষয়ে তদন্ত হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়নি। তবে বর্তমানে সরকারের মূল মনোযোগ সংকট মোকাবিলায়। তিনি বলেন, “তদন্তের বিষয়টি রয়েছে। কিন্তু এখন সংকট সমাধানই অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।”
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ডেঙ্গুর কোনো নির্দিষ্ট টিকা নেই, তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তিনি বলেন, “ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মোবাইল হাসপাতাল ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে রোগীর চাপ বাড়লেও কোনো রোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন।
সভায় আরও জানানো হয়, হামের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সভায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান হিসেবে প্রদান করেছে। এ সময় চীনা দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অনুদান দেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে সহায়তা করবে।
Leave a Reply