নিজেস্ব প্রতিবেদন
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে এক বিস্ময়কর ইতিহাস—প্রায় শত বছরের পুরোনো এক বিশাল বটগাছ। সময়ের প্রবাহে মানুষের জীবনযাত্রা, পরিবেশ ও সমাজ বদলে গেলেও এই বটগাছটি আজও একইভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, যেন নীরবে পুরো অঞ্চলের ইতিহাস ধারণ করে আছে।
স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি গাছ নয়; বরং এক জীবন্ত অভিভাবক, যে বহু প্রজন্মকে বড় হতে দেখেছে। এই বটগাছকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে গোলমুন্ডা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান। ধর্মীয় উৎসবের সময় হাজারো মানুষ এখানে একত্রিত হন। তখন এই বিশাল বটবৃক্ষ তার প্রশস্ত ডালপালা ও শীতল ছায়া দিয়ে পুরো মাঠকে ঢেকে রাখে, যা মানুষকে এনে দেয় স্বস্তি ও প্রশান্তি।
গাছটির এক পাশে রয়েছে গোলমুন্ডা বাজার। দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই বাজারে চলে মানুষের ব্যস্ততা—কেনাবেচা, আড্ডা আর জীবিকার সংগ্রাম। আর পাশেই ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, যেখানে স্থানীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের মাঝে বটগাছটি যেন এক নীরব সংযোগসূত্র হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যা সবকিছুকে এক ছায়াতলে বেঁধে রেখেছে।
বটগাছের কাছেই রয়েছে গোলমুন্ডা হাই স্কুল মাঠ। বিকেল হলেই এই মাঠে শুরু হয় ফুটবল খেলা, তরুণদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এই খেলার মাঠ আর বটগাছ মিলেই তৈরি করেছে অসংখ্য মানুষের শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতি, যা আজও এলাকার মানুষ গভীরভাবে স্মরণ করে।
এর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বুড়ি তিস্তা নদী। নদীর হিমেল বাতাস যখন বটগাছের পাতায় দোল খায়, তখন পুরো এলাকায় এক অপার্থিব শান্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রকৃতি, নদী, মানুষ আর ইতিহাস—সব মিলিয়ে এখানে তৈরি হয়েছে এক অনন্য জনপদীয় আবহ।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক কিছু বদলালেও গোলমুন্ডার এই শতবর্ষী বটগাছ আজও অটলভাবে দাঁড়িয়ে আছে। এটি শুধু একটি বৃক্ষ নয়, বরং একটি জনপদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্মৃতির জীবন্ত দলিল। এই ঐতিহ্য রক্ষা করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।
Leave a Reply